সমস্ত প্রশংসা মহান আল্লাহ তাআলার জন্য, যিনি সময় ও যুগের স্রষ্টা এবং পরিবর্তনকারী। তিনিই রমজান মাসকে অন্যান্য সব মাসের ওপর বিশেষ মর্যাদা দান করেছেন এবং এ মাসে নেক আমলের সওয়াব বহুগুণ বৃদ্ধি করে দিয়েছেন। রমজান বরকতময় মাস। ইবাদতের মাস। আমলের মাস। আত্মশুদ্ধির মাস। এ মাসটি কাটাবেন কীভাবে?
মাহে রমজান রহমত, বরকত ও ক্ষমার মাস। এটি জাহান্নাম থেকে মুক্তির মাস, ধৈর্য ও সহমর্মিতার মাস এবং নেক আমলে প্রতিযোগিতার মাস। হজরত উবাদা ইবনে সামেত (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—
أَتَاكُمْ رَمَضَانُ شَهْرٌ مُبَارَكٌ يَغْشَاكُمُ اللَّهُ فِيهِ فَيُنَزِّلُ الرَّحْمَةَ وَيَحُطُّ الْخَطَايَا وَيَسْتَجِيبُ فِيهِ الدُّعَاءَ، يَنْظُرُ اللَّهُ إِلَى تَنَافُسِكُمْ فِيهِ وَيُبَاهِي بِكُمُ الْمَلَائِكَةَ فَأَرُوا اللَّهَ مِنْ أَنْفُسِكُمْ خَيْرًا، فَإِنَّ الشَّقِيَّ مَنْ حُرِمَ فِيهِ رَحْمَةَ اللَّهِ
‘তোমাদের কাছে রমজান এসেছে— এটি এক বরকতময় মাস। আল্লাহ এ মাসে তোমাদেরকে রহমত দিয়ে আচ্ছাদিত করেন, রহমত নাজিল করেন, গুনাহ মাফ করেন এবং দোয়া কবুল করেন। তিনি তোমাদের নেক আমলের প্রতিযোগিতা দেখেন এবং ফেরেশতাদের কাছে তোমাদের নিয়ে গর্ব করেন। তাই তোমরা আল্লাহর কাছে নিজেদের ভালো আমল পেশ করো। নিশ্চয় সেই ব্যক্তি হতভাগ্য, যে এ মাসে আল্লাহর রহমত থেকে বঞ্চিত হয়।’ (তাবারানি)
রোজা ও তারাবিহর গুরুত্ব
আল্লাহ তাআলা মুমিনদের ওপর রোজা ফরজ করেছেন এবং নবী করিম (সা.) তারাবিহ নামাজকে সুন্নত করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন—
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى الَّذِينَ مِنْ قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ
‘হে ঈমানদারগণ! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর— যাতে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পার।’ (সুরা আল-বাকারা: আয়াত ১৮৩)
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—
إِنَّ اللَّهَ فَرَضَ صِيَامَ رَمَضَانَ وَسَنَنْتُ لَكُمْ قِيَامَهُ، فَمَنْ صَامَهُ وَقَامَهُ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا خَرَجَ مِنْ ذُنُوبِهِ كَيَوْمٍ وَلَدَتْهُ أُمُّهُ
‘নিশ্চয়ই আল্লাহ রমজানের রোজা ফরজ করেছেন এবং আমি তোমাদের জন্য এর কিয়াম (তারাবিহ) সুন্নত করেছি। যে ব্যক্তি ঈমান ও সওয়াবের আশায় রোজা রাখবে এবং কিয়াম করবে, সে গুনাহ থেকে এমনভাবে পবিত্র হয়ে যাবে যেমন সেদিন ছিল যেদিন তার মা তাকে জন্ম দিয়েছিলেন।’ (মুসনাদে আহমদ, নাসাঈ)
রোজা একটি ঢাল
রোজা মানুষকে গুনাহ থেকে রক্ষা করে এবং জাহান্নামের আজাব থেকে বাঁচার ঢাল হিসেবে কাজ করে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—
الصَّوْمُ جُنَّةٌ مَا لَمْ يَخْرِقْهَا
‘রোজা একটি ঢাল, যতক্ষণ না তা ছিদ্র করা হয়।’ (মুসনাদে আহমদ)
মিথ্যা, গিবত, পরনিন্দা ও অন্যান্য গুনাহের মাধ্যমে এই ঢাল দুর্বল হয়ে যায়। তাই রোজার পবিত্রতা রক্ষার জন্য কিছু আদব মেনে চলা জরুরি।