"পাট শিল্প গড়ে তুলুন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করুন" এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সারাদেশের ন্যায় জামালপুরে জাতীয় পাট দিবস উদযাপন উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (৬ মার্চ) সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে থেকে জেলা প্রশাসক ও জামালপুর পাট অধিদপ্তরের যৌথ আয়োজনে এক বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয়। র্যালিটি প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এ কে এম আব্দুল্লাহ বীন রশিদের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইউসুপ আলী।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইউসুপ আলী বলেন, পাটের বিভিন্ন ধরনের প্রোডাক্ট আগের চেয়ে বেশি মনে করি এবং বিভিন্ন জায়গায় পাটের ব্যবহার দশ বছর আগের তুলনায় কিছুটা হলেও বেড়েছে।পরিবেশবান্ধব বিভিন্ন উপকরণ ব্যবহারে বাধ্যবাধকতা সব ক্ষেত্রে রয়ে গেছে। সরকারি নির্দেশনা রয়ে গেছে। বেসরকারি সেক্টরকে এর আওতায় আনতে হবে। এর আওতায় আনতে গেলে যেখানে সরকারকে পলিসি সহায়তা, নীতি সহায়তা, আইনগত সহায়তা প্রদান করছে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে পাট আইন-২০১৭ আছে। ১৯৬৪ সালের পাট লাইসেন্স এনেন্সপোস্টম্যান নীতিমালা আছে। পূর্বের পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার আইন-২০১০ আছে। ১৯ টি পণ্য আছে সেগুলোতে পাটজাত মোড়ক ব্যবহার করতে হবে। সেই লক্ষ্যে পুরো বাংলাদেশ জুড়ে মোবাইলকোর্ট হচ্ছে। আমাদের এখানে বিগত জুলাই থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ২০ টি মোবাইলকোর্ট পরিচালনা হয়েছে। এতে প্রায় দেড় লাখ টাকার মতো জরিমানা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক বলেন, আইন তো আছেই, পলিথিন নিষিদ্ধ আইন। বাট আইনের চেয়েও অভ্যাস পরিবর্তনটা অন্যতম জরুরি এসবের ক্ষেত্রে সফলতা লাভের জন্য। আর যদি মানানসই কোন সময় এবং জায়গা আমরা পাই তাহলে আমরা পাটজাত পণ্যের একদিনের প্রদর্শণীর ব্যবস্থা করে দিব। মিডিয়াসহ বিশাল এক জনগোষ্ঠীকে সেখানে আমরা আমন্ত্রণও জানাতে পারি।
তিনি বলেন, এই দুইটা কার্যক্রম সামনের দিকে গ্রহণ করব। পঞ্চাশটা কার্যক্রমের কথা বলবো না। প্রশিক্ষণ প্লাস পণ্যের প্রদর্শনী, এই দুইটা কার্যক্রম গ্রহণ করার পরিকল্পনা আমাদের আছে। সেইটা আমরা বাস্তবায়ন করব ইনশাল্লাহ।অন্যান্য শিল্পের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পাট শিল্পের যে আকাঙ্ক্ষা লক্ষ্য আছে সেই লক্ষ্য অর্জনে এগিয়ে যাবে সেই আশাবাদ ব্যক্ত করছি।
আলোচনা সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন জামালপুরের পাট উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. আকরাম হোসেন।
এতে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খামার বাড়ির অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (উদ্যান) দিলরুবা ইয়াসমিন, জামালপুরের মুখ্য পাট পরিদর্শক মো. নুর আলম, সাবেক পাট উন্নয়ন সহকারী মো. আব্দুল জলিল, পরিদর্শক (পাট) মো. আওরংগযেব, সদর থানার সেকেন্ড অফিসার (উপ-পরিদর্শক) সুমন চন্দ্র সরকার, জেলা ব্র্যাক সমন্বয়ক শফিকুল ইসলাম, উদ্যোক্তা আতিয়া সিদ্দিকা, মো. আনিছুর রহমান, কৃষক হুজাইফা রহমান ও দেলোয়ার হোসেন প্রমুখ।
আলোচনা সভায় সরকারি বেসরকারি বিভিন্ন সেক্টরের কর্মকর্তা, উদ্যোক্তা ও কৃষকরা অংশগ্রহণ করেন।