১৩ মার্চ ১৯৭১ সালে জামালপুরের প্রথম স্বাধীনতার পতাকা উত্তোলন দিবস উদযাপন উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
১৩ মার্চ স্বাধীনতা পতাকা উত্তোলন দিবস উদযাপন পরিষদ ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মতিন মিয়া (হিরু) ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন এ আলোচনা সভা ও দোয়ার আয়োজন করেন।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) বিকেলে বকুলতলারস্থ পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়তনে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) জেলা শাখার সভাপতি অধ্যাপক আমীর উদ্দিনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন সমাজ কর্মী মোহাব্বত আলী ফকির।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোহাব্বত আলী ফকির বলেন, আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশগ্রহণ করতে হবে। আমরা কোন ভাবেই আপস করছি না। মধুপুর পর্যন্ত যখন পাকিস্তানিরা চলে আসে। তখন জামালপুরকে রক্ষা করার জন্য প্রতিদিন একদল সাহসী এবং মুক্তিকামী মানুষ মধুপুরের যে সড়ক দিয়ে জামালপুরে প্রবেশ করা হয় সেই সড়কে গাছ কেটে রাস্তাকে প্রতিরোধ করে নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে; এমন সময় ছিল। ছাত্র সংসদ পরিষদের পক্ষ থেকে প্রতিদিন মার্চের সেই উত্তাল দিনগুলোতে আশেক মাহমুদ কলেজ থেকে মিছিল আসতো।
তিনি আরও বলেন, কলেজের ছাত্র- ছাত্রীদের নিয়ে বিশাল মিছিল। সেই মিছিলে স্লোগান দিত, তুমি কে? আমি কে? বাঙালি, বাঙালি। জাগো, জাগো, বাঙালি জাগো। ঢাকা না পিন্ডি? ঢাকা, ঢাকা। ইত্যাদি স্লোগান দিত। তবে সেই দিন পাকিস্তানি পতাকাকে পুড়িয়ে ফেলার পূর্বে কেরোসিন দিয়ে ভেজানোর প্রয়োজন পড়ে। তা না হলে পতাকাটা সঠিকভাবে পুড়তো না। পাকিস্তানি পতাকা পুড়িয়ে তারপর জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করা হয়।
গোপালপুর ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক তরিকুল ফেরদৌসের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কবি ও বিশিষ্ট সাংবাদিক সাযযাদ আনসারী, মানবাধিকার কর্মী ও সাংবাদিক জাহাঙ্গীর সেলিম, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক নুরুল মোমেন আকন্দ কাওছার, জাসাস জেলা শাখার সাবেক সভাপতি হাফিজুল ইসলাম সজল, ডা. ফরিদুল ইসলাম, জেএসডি ছাত্রলীগ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানা প্রমুখ।
আলোচনা সভা শেষে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মতিন মিয়া হিরুসহ ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে সকল বীর শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় বিশেষ দোয়া করা হয়।
আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।