
পবিত্র ঈদ-উল ফিতর উপলক্ষে জামালপুরে পাঁচ শতাদিক পরিবারের মাঝে ব্যক্তিগত উদ্যোগে ঈদ সামগ্রী বিতরণ করেছে জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শামীম আহাম্মেদ। বুধবার (১৮ মার্চ) বিকেলে জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে এ ঈদ সামগ্রী বিতরণ করা হয়। জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মাহবুবুর রহমান জিলানীর সভাপতিত্বে ঈদ সামগ্রী বিতরণ পূর্বক সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শামীম আহাম্মেদ। প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপি নেতা শামীম আহাম্মেদ বলেন, যখনই প্রাকৃতিক দূর্যোগ বন্যা হয় তখন আমি এদের পাশে নিয়ে জামালপুরের প্রত্যন্ত অঞ্চলে যে জায়গা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয় সেই জায়গায় যাওয়ার চেষ্টা করি। বিভিন্ন প্রাকৃতিক দূর্যোগে আমি আমার সাধ্যমত সাহায্য নিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করি। আমার এই রাজনীতির জীবনে আমার নেতা তারেক রহমানের নেতৃত্বে ৩১ দফা নিয়ে সারা জামালপুরের প্রত্যন্ত অঞ্চলে, অজপাড়া গায়ে মানুষের দ্বার প্রান্তে পৌঁছানোর চেষ্টা করেছি। তারেক রহমানের যে ফ্যামিলি কার্ড এতে মা-বোনেরা উপকৃত হবে। প্রতিমাসে তারা আড়াই হাজার টাকা করে পাবে। তিনি আরও বলেন, ফ্যামিলি কার্ডটা পর্যায়ক্রমে প্রত্যেক মা-বোনেরা পাবেন। এই ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে কেউ প্রতারিত হবেন না। কাউকে কোন প্রকার টাকা পয়সা দিতে হবে না। আমার নেতা তারেক রহমান সাহেব খোঁজখবর নিয়ে আপনাদের হাতে এই ফ্যামিলি কার্ডটা পৌঁছানোর ব্যবস্থা করবেন। আপনাদের যেমন দায়িত্ব ছিল উনাকে ভোট দেওয়া। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানের দল বিএনপিতে গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সবার আগে ধানের শীষে ভোট দিয়েছেন। শামীম আহাম্মেদ বলেন, এখন আমার নেতার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে এই ফ্যামিলি কার্ড আপনার হাতে গিয়ে পৌঁছাবে এটা নিয়ে বিভ্রান্ত হওয়ার কিছু নাই। হয়তোবা একটু আগে পিছে হতে পারে। সময় লাগতে পারে। পাসপোর্ট এর মতো ফ্যামিলি কার্ড বাংলাদেশে বিতরণ হবে ইনশাল্লাহ। আমাদের দেড় কোটি কৃষক ভাইয়েরা রয়েছে। দেড় কোটি কৃষক পর্যায়ক্রমে কৃষক কার্ডটি পাবে। কৃষক কার্ডের উপকারিতা কি? ন্যায্য মূল্যে আপনি স্যার বীজ ও কীটনাশক পাবেন। কৃষি কাজে ব্যবহারিত যে যন্ত্রপাতি আছে তা সহজ ভাবে পাবেন। এই কৃষিক কার্ডের বিনিময়ে সহজেই আপনি ঋণ পাবেন। এই কার্ড পেতে কোন নেতার বাড়ি-বাড়ি যেতে হবে না। এটা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তিনি বলেন, তারেক রহমান সাহেব রাষ্ট্রের প্রধানমন্ত্রী তিনি নিজেই ঘোষণা দিয়েছেন আপনাদের কার্ড দিবে আর কয়েকদিন পরে। ঈদের আনন্দকে ভাগাভাগি করে যাতে ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে পারি এই জন্য আমার ক্ষুদ্র প্রচেষ্টায় কিছু ঈদ সামগ্রী বিতরণ করব। রাজনীতি করতে গিয়ে অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি ১৭টা বছর। বিশেষ করে আমার ব্যবসা বাণিজ্য ধংস করে ফেলেছি। আমাকে অনেক ধন সম্পদ আল্লাহ দিয়েছে। আল্লাহ যদি কপালে দেয় আবার ফেরত আসবে। আপনারা দোয়া করবেন। আমার হাতে কিছু থাকলে তো আমি দিতে পারবো। দোয়া করবেন যেন হয়। আল্লাহ যেন আমার হাতে সেই তৌফিক দান করেন। দল রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায়। দল যদি মনে করেন চেয়ার দেওয়া দরকার, তাহলে আমাকে চেয়ার দিবে। তারেক রহমান সাহেবের ইচ্ছা এটা। আমি চাইব না। অনেক চেয়ার খালি আছে। আগামী দিনগুলোতে যাতে আমি আপনাদের পাশে দাঁড়াতে পারি। সেই জন্য আপনারা আমার জন্য দোয়া করবেন। ঈদ সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মাহবুবুর রহমান জিলানী, জেলা যুবদলের সদস্য খায়রুল ইসলাম লিয়ন, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি শাহাদাত হোসেন সাগর, সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক রানা ম্যানশন, জিয়া সাইবার ফোর্স কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এম শুভ পাঠান, সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজ ছাত্র-দলের সাবেক সহ-সভাপতি ইফতেখার মুরাদসহ বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠন সমূহের সকল নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন