
শিক্ষাক্ষেত্রে ধারাবাহিক সাফল্য ও গুণগত অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০২৫ সালে আবারও ঠাকুরগাঁও জেলার শ্রেষ্ঠ প্রভাষক নির্বাচিত হয়েছেন মো. ওমর ফারুক। তিনি পদমপুর বি.এম কলেজ, রাণীশংকৈল-এর হিসাববিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে দক্ষতা, নিষ্ঠা ও সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
এর আগে ২০২৩ ও ২০২৪ সালেও টানা দুইবার জেলার শ্রেষ্ঠ প্রভাষক নির্বাচিত হন মো. ওমর ফারুক। টানা তিন বছর এই মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতি অর্জন করায় শিক্ষক সমাজ, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক আনন্দ ও গর্বের অনুভূতি সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ অর্জন তাঁর ধারাবাহিক পেশাদারিত্ব ও শিক্ষার প্রতি দায়বদ্ধতারই স্বাভাবিক ফল।
মো. ওমর ফারুক একজন মাস্টার ট্রেনার (আইসিটি) হিসেবে জেলার শিক্ষাব্যবস্থায় প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন। তিনি জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের আইসিটি বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করে দক্ষ ও আধুনিক শিক্ষক গড়ে তুলতে বিশেষ অবদান রাখছেন। ডিজিটাল কনটেন্ট ব্যবহার, মাল্টিমিডিয়া ক্লাস পরিচালনা এবং বাস্তবভিত্তিক পাঠদানের মাধ্যমে তিনি শিক্ষার্থীদের শেখার আগ্রহ বাড়াতে সক্ষম হয়েছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড-এর অধিভুক্ত প্রতিষ্ঠানের নিরীক্ষক (বাকাশিবো) হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। এই দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের একাডেমিক ও প্রশাসনিক মানোন্নয়নে তাঁর অভিজ্ঞতা ও পেশাগত দক্ষতার স্বীকৃতি মিলেছে।
সহকর্মীদের ভাষ্যমতে, মো. ওমর ফারুক কেবল একজন দক্ষ শিক্ষকই নন, বরং শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, শৃঙ্খলা ও দায়িত্ববোধ গড়ে তুলতেও তিনি আন্তরিকভাবে কাজ করেন। তাঁর পাঠদান পদ্ধতি সহজ, যুগোপযোগী ও ফলপ্রসূ হওয়ায় শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার ফলাফলও নিয়মিতভাবে সন্তোষজনক হয়ে থাকে।
এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়ায় মো. ওমর ফারুক বলেন, এই সম্মান তাঁর একার অর্জন নয়। শিক্ষার্থী, সহকর্মী, প্রতিষ্ঠান প্রধান ও পরিবারের সহযোগিতা এবং অনুপ্রেরণাই তাঁর কাজের মূল শক্তি। তিনি ভবিষ্যতেও শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন, প্রযুক্তিনির্ভর পাঠদান এবং শিক্ষার্থীদের দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে নিরলসভাবে কাজ করে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
শিক্ষা সংশ্লিষ্ট মহলের অভিমত, মো. ওমর ফারুকের এই ধারাবাহিক সাফল্য নতুন প্রজন্মের শিক্ষকদের জন্য একটি শক্তিশালী অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে এবং ঠাকুরগাঁও জেলার সামগ্রিক শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও সমৃদ্ধ করতে সহায়ক হবে।
মন্তব্য করুন