
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত এমপি বলেছেন, আমরা পূর্বে যা-ই থাকিনা কেন সেটাকে ভুলে যেতে হবে। ভুলে গিয়েই আমরা যে নতুন অধ্যায়ে পা দিয়েছি সেইটা যাতে মনে করতে পারি। আমরা যাতে মনে করতে পারি যে আমরা একটা নতুন বাংলাদেশ পেয়েছি। যে বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদের আর উত্থান হবে না। সেই জন্যই কিন্তু আমাদের নিজেদেরকেই একটু সংযত হয়ে শৃঙ্খলা বজায় রেখে আমাদের পার্টিসিপ্যান্ট বাংলাদেশের জন্য দিতে হবে। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জামালপুর জেলার ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়া প্রতিনিধিদের সাথে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত এমপি এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, আপনারা জানেন জামালপুরে পাঁচটি আসনেই আমরা বিজয়ী হয়েছি। এই পাঁচটি আসনেই আমরা জাতীয়তাবাদী দলের প্রার্থী ছিলাম। আমরা ভাই ভাই। এককথায় বলতে চাই আমরা পাঁচজন ভাই ভাই জামালপুরের উন্নতি চাই। এই উন্নয়ন করতে হলে আমাদেরকে সকলে মিলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। সেই জায়গায় প্রশাসনের অনেক সহযোগিতার প্রয়োজন হয়। আমরা হয়তো অনেক বরাদ্দ দিবো জামালপুরের পাঁচটি আসনের জন্য। যদি আমরা প্রশাসন থেকে সার্বিক সহযোগিতা পাই তাহলে নিশ্চই আমাদের যে প্রতিশ্রুতি রয়েছে সেইগুলি বাস্তবায়ন করতে পারবো। প্রতিমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, আপনারা জানেন ইতিমধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জেলাসহ অন্যান্যে জায়গাগুলোতে আগের চেয়ে উন্নতির দিকে যাচ্ছে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান তিনি ১৮০ টি প্রোগ্রাম হাতে নিয়েছেন। এই দেশটি ফ্যাসিবাদের কবল থেকে উদ্ধার করার জন্য যা যা করনিও তিনি আমাদের নির্দেশনা দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে। আমরা যারা সরকারে রয়েছি এদের নিয়েও প্রতিনিয়ত তিনি দিনরাত পরিশ্রম করছেন। যাতে করে এই ভঙ্গুর রাষ্ট্রকে আমরা বিনির্মাণ করতে পারি। সারা বাংলাদেশে যারা সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন তাদের সাথেও তিনি মতবিনিময় করবেন। আমাদেরকেও নির্দেশনা দিবেন কিভাবে আমরা দেশটাকে পুনর্গঠন করতে পারি, বিনির্মাণ করতে পারি। সেই জন্য আমি আমার জেলার জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারসহ অন্যান্য কর্মকর্তা যারা রয়েছে তাদের সকলের সহযোগিতা কামনা করবো। সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনারা সাদাকে সাদা বলুন, কালোকে কালো বলুন, কোন আপত্তি নেই। কিন্তু ইয়োলো জার্নালিজম যাতে না হয়। এটাতে অনেক ক্ষতি হয় দেশের ও এলাকার। আপনারা যারা জামালপুরে রয়েছেন। আপনাদের জন্য অনেক শুভেচ্ছা। ইতিমধ্যে আমাদের তথ্যমন্ত্রী ওয়েসবোর্ড নিয়ে কথা বলেছেন। আপনাদের সুবিধা-অসুবিধা নিয়ে কথা বলেছেন। কিন্তু একটি বিষয়ে অনুরোধ যাতে করে কোন রকমে মিথ্যা সংবাদ বা সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয় বা বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয় সেই ধরনের খবর ছাপানো না হয়। এই জন্য আপনাদের কাছে অনুরোধ করবো আসেন আমরা সকলেই মিলেই দেশটাকে গড়ার কাজে লাগি। পাঁচটি বছর যদি আমরা চেষ্টা করি নিশ্চই সম্ভব। মিল্লাত এমপি বলেন, আমরা যারা নির্বাচিত হয়েছি তাদের কিছু প্রতিশ্রুতি আমাদের জনগণের জন্য রয়েছে। সেই প্রতিশ্রুতি গুলি যাতে আমরা পূরণ করতে পারি। সেই জন্য গতকাল আমরা ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত কৃষি ঋীণ দশ হাজার টাকা ছিল। সুধসহ মৌকুফ করে দেওয়া হয়েছে। আস্তে আস্তে ভিজিএফ কার্ড, কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড এই গুলি যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে ছিলাম আমরা সে গুলি বাস্তবায়ন করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে প্রস্তুত রয়েছি। হয়তো মার্চের দিকেই শুরু করবো। দেশের বিনিয়োগের বিষয়ে তিনি বলেন, আমাদের দেশের বিনিয়োগ খুব কম। বিনিয়োগ আনার জন্য ইতি মধ্যে আমাদের কমিটি করে দেওয়া হয়েছে। আমরা বিনিয়োগ বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা করছি। শীগ্রই আপনারা পরিবর্তন দেখতে পারবেন। হয়তো রোজার পর থেকেই। আমরা যদি সবাই একটু চিন্তা করি দেশটাকে নিয়ে, আমাদের দেশের সার্বভৌমত্ব নিয়ে, সকলে মিলে আগের কথা বাদ দিয়ে। দেশকে বাচাঁনোর স্বার্থে, পরবর্তী প্রজন্মকে বাচাঁনোর স্বার্থে এবং দেশকে একটি উন্নত দেশ হিসেবে পরিলক্ষিত করার জন্য সকলেই আসুন ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করি। জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ ইউসুপ আলী’র সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জামালপুর-৩ মেলান্দহ-মাদারগঞ্জ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, পুলিশ সুপার ড. চৌধুরী মো. যাবের সাদেক, জামালপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি হাফিজ রায়হান সাদা, সাধারণ সম্পাদক মো. লুৎফর রহমান, জামালপুর জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি এম এ জলিল, সাধারণ সম্পাদক মুকুল রানা, প্রেসক্লাব জামালপুরের সভাপতি মুখলেছুর রহমান লিখন, সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম প্রমুখ। মতবিনিময় সভায় জেলার ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সকল প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন