
জামালপুরে কবিরাজির নামে প্রতারণা করে সাড়ে ২৬ ভরি স্বর্ণালংকার ও ৩ লাখের বেশি টাকা হাতিয়ে নেওয়া চক্রের মূলহোতা কন্টেন্ট ক্রিয়েটর মো. মনির হোসেন (২১) নামের একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পিবিআই। বুধবার (১৫ এপ্রিল) ময়মনসিংহ জেলার কোতয়ালী থানার মাসকান্দা নতুন বাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বৃহস্পতিবার ১৬ এপ্রিল দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে পিবিআই জামালপুর ইউনিটের ইনচার্জ পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত। মনির হোসেন জামালপুর সদর উপজেলার লক্ষীরচর ইউনিয়নের চান্দাপাড়া এলাকার মৃত মজিবুর রহমানের ছেলে। তিনি মেইড ইন জামালপুর ফেসবুক পেজ বিভিন্ন ধরনের কন্টেন্ট তৈরি করে। পিবিআই সূত্রে জানা গেছে, শেরপুরের কাপড় ব্যবসায়ী ছাইদুর রহমানের ১৩ বছর বয়সী অষ্টম শ্রেণীতে পড়া কিশোরী মেয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে কিভাবে বাবা-মাকে আপন করে পাওয়া যায় সেই বিষয়ে ভিডিও দেখা শুরু করে। টিকটকে তান্ত্রিক পরিচয়ধারী মো. খুরশেদ কবিরাজের সাথে সেই কিশোরীর পরিচয় হয়। সেই পরিচয়ের সূত্র ধরে খুরশেদ কবিরাজ নামক প্রতারক ভুয়া আইডি থেকে তার সহকারী “কবিরাজ” নামে ২টি ও “আল্লাহর দান” নামে ১টি ইমু একাউন্টের মাধ্যমে লুবাবার সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ করে সকল সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেয়। কবিরাজির ফ্রি ১ টি খাসি, ৪ টি জায়নামাজ, ৪ টি আগর বাতি, ৪ টি মোমবাতি, ৫ কেজি গরুর দুধ, ৫ কেজি ফল, মন্ত্রে কাজ না হওয়ায় জোড়া শুকর ক্রয় করে জবাই করা, ২ কেজি চন্দন কাঠ ক্রয় ইত্যাদি বাবদ চলতি বছরের মার্চ মাসের ৬ তারিখ থেকে ৯ তারিখ পর্যন্ত মোট ২ লাখ ৪৩ হাজার ১৫০ টাকা বিকাশ একাউন্টে মাধ্যমে হাতিয়ে নেয়। সর্বশেষ ১০ মার্চ ঝাড়ফুঁক দেয়ার কথা বলে প্রায় ২৬ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ ১ লাখ টাকা কৌশলে হাতিয়ে নেয়। ১৭ মার্চ ওই কিশোরী আবার টাকা পাঠাতে গেলে বিকাশ দোকানদার তার বয়স কম হওয়ায় তার বাবা ছাইদুর রহমানকে ফোন করলে তিনি প্রতারণার বিষয়ে জানতে পারেন। পরে ওই দিনই তিনি শেরপুর সদর থানায় প্রতারণা মামলা করেন। পরে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এর হেডকোয়ার্টার্স বিষয়টি জানতে পেলে জামালপুর ইউনিটকে মামলার রহস্য উদঘাটনের জন্য কাজ করার নির্দেশনা প্রদান করে। জামালপুর জেলার বেশ কয়েকটি টিম মামলার রহস্য উদঘাটনের লক্ষ্যে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করে। তথ্য প্রযুক্তি সহায়তায় মামলার ঘটনার সাথে সরাসরি জড়িত আসামী সদর উপজেলার চান্দাপাড়া এলাকার মোস্তফার ছেলে মো. মুছা মিয়া (২৯), মৃত নবাব আলীর ছেলে মো. রফিকুল ইসলাম (২৮) কে ৯ এপ্রিল গাজীপুরের শ্রীপুর থানার মাওনা এমসি বাজার এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল বুধবার (১৫ এপ্রিল) চক্রের মূলহোতা মনির হোসেনকে ময়মনসিংহের কোতয়ালী থানার মাসকান্দা নতুন বাজার এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত ৫টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে তাকে নিয়ে অভিযান পরিচালনা করে তার নিজ বাড়ীর পার্শ্ববর্তী বাগানের মাটি খুড়ে ২৫ ভরি ০৯ আনা ৪ রুতি স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়। যার অনুমানিক মূল্য ৬৪ লাখ টাকা। জামালপুর জেলার পিবিআই এর পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত জানান, আসামীরা ইমু একাউন্ট ব্যবহার করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত বিভিন্ন সমস্যার বিষয়ে শুনে সমাধানের কথা বলে মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধ্যমে বিভিন্ন অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়। ওই কিশোরী কিছুদিন যাবত নিজে থেকেই মনে করে আসছিল যে, তার বাবা-মা তার ছোট ভাইবোন এর চেয়ে তাকে কম আদর করে। তাই সে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বাবা-মাকে সব থেকে আপন করে নেওয়ার জন্য বিভিন্ন ভিডিও দেখে আসছিল। সে থেকেই এই ঘটনার সূত্রপাত। তিনি আরও বলেন, মামলার বিষয়ে জানার পরপরই আমরা মামলার রহস্য উদঘাটনে কাজ শুরু করি। পিবিআই জামালপুর ইউনিটের চৌকস সদস্যদের কয়েকটি টিমে ভাগ করে তাদের আলাদা আলাদা দায়িত্ব প্রদান করা হয়। পাশাপাশি সার্বক্ষণিকভাবে তাদের কার্যক্রম তদারকি করা হয়। টিমগুলোর কঠোর পরিশ্রমের অংশ হিসেবে এই মামলার মূল রহস্য এত দ্রুত সময়ে উদঘাটন করা সম্ভব হয়। এ বিষয়ে তিনি জন সাধারণকে চাটুকার বিজ্ঞাপন দেখে যাচাই-বাছাই ছাড়া কোন প্রকার আর্থিক লেনদেন না করতে অনুরোধ জানান।
মন্তব্য করুন